1রুপোর জন্য খনি আছেও একটি স্থান আছে যেখানে সোনা শোধন করা হয়।2ভূগর্ভ থেকে লোহা উত্তোলন করা হয়,ও আকরিক থেকে তামা বিগলিত করা হয়।3নশ্বর মানুষ অন্ধকার নিকাশ করে;তারা সবচেয়ে অন্ধকারে থাকা আকরিক পাওয়ার জন্যসর্বাধিক দূরবর্তী গর্তের খোঁজ করে।4লোকালয় থেকে বহুদূরে অবস্থিত এমন স্থানে তারা খাদ কাটে,যেখানে মানুষের পদচিহ্ন পড়েনি;অন্যান্য মানুষজনের কাছ থেকে দূরে সরে গিয়ে তারা দুলতে ও ঝুলতে থাকে।5যে মাটি থেকে খাদ্য উৎপন্ন হয়,তার তলদেশ আগুন দ্বারা রূপান্তরিত হয়ে যায়;6সেখানকার পাষাণ-পাথরগুলিতে নীলকান্তমণি পাওয়া যায়,ও সেখানকার ধুলোয় দলা দলা সোনা মিশে থাকে।7কোনও শিকারি পাখি সেই গুপ্ত পথ চেনে না,কোনও বাজপাখির চোখ তা দেখেনি।8উদ্ধত পশুরা তার উপরে পা ফেলে না,ও কোনও সিংহ সেখানে শিকারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায় না।9মানুষজন তাদের হাত দিয়ে সেই অতি কঠিন পাষাণ-পাথরে হামলা চালায়ও পর্বত-মূল উন্মুক্ত করে দেয়।10তারা পাষাণ-পাথর খুঁড়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করে;সেখানকার সব মণিরত্ন তাদের চোখে পড়ে।11তারা নদীর উৎসস্থলের খোঁজ করেও লুকানো বস্তুগুলি প্রকাশ্যে আনে।12কিন্তু প্রজ্ঞা কোথায় পাওয়া যাবে?বুদ্ধি-বিবেচনা কোথায় থাকে?13কোনও নশ্বর মানুষ তার মূল্য হৃদয়ঙ্গম করতে পারে না;জীবিতদের দেশে তা পাওয়া যায় না।14অগাধ জলরাশি বলে, “আমাতে তা নেই”সমুদ্র বলে, “আমার কাছেও তা নেই।”15খাঁটি সোনা দিয়ে তা কেনা যায় না,তার মূল্য রুপো দিয়েও মেপে দেওয়া যায় না।16ওফীরের সোনা দিয়ে,মূল্যবান গোমেদক বা নীলকান্তমণি দিয়েও তা কেনা যায় না।17তার সাথে সোনা বা স্ফটিকের তুলনা করা যায় না,সোনা-মানিকের বিনিময়ে তা পাওয়া যায় না।18প্রবাল ও জ্যাসপারের কথাই ওঠে না;প্রজ্ঞার মূল্য পদ্মরাগমণির চেয়েও বেশি।19তার সাথে কূশ দেশের পোখরাজের তুলনা করা যায় না;খাঁটি সোনা দিয়েও তা কেনা যায় না।20তবে প্রজ্ঞা কোথা থেকে আসে?বুদ্ধি-বিবেচনা কোথায় থাকে?21প্রত্যেক সজীব প্রাণীর চোখে তা অজ্ঞাত থাকে,আকাশের পাখিদের কাছেও তা অদৃশ্য থাকে।22বিনাশ ও মৃত্যু বলে,“আমাদের কানে শুধু এক গুজব পৌঁছেছে।”23ঈশ্বরই প্রজ্ঞার কাছে পৌঁছানোর রাস্তা জানেনও একমাত্র তিনিই জানেন তা কোথায় থাকে,24যেহেতু তিনি পৃথিবীর প্রান্ত পর্যন্ত দেখেনও আকাশমণ্ডলের নিচে যা যা আছে, তিনি সবকিছু দেখেন।25যখন তিনি বাতাসের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেনও জলরাশির মাপ নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন,26যখন তিনি বর্ষার জন্য এক আদেশ জারি করেছিলেনও বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝোড়ো বৃষ্টির জন্য এক পথ স্থির করেছিলেন,27তখন তিনি প্রজ্ঞার দিকে তাকিয়েছিলেন ও তার মূল্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন;তিনি তাকে অনুমোদন দিয়েছিলেন ও তার পরীক্ষা নিয়েছিলেন।28আর তিনি মানবজাতিকে বললেন,“সদাপ্রভুর ভয়—সেটিই হল প্রজ্ঞা,ও মন্দকে এড়িয়ে চলাই হল বুদ্ধি-বিবেচনা।”