1আর ইয়োব তাঁর বক্তৃতা চালিয়ে গেলেন:2“যিনি আমাকে ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত করেছেন, সেই জীবন্ত ঈশ্বরের দিব্যি,যিনি আমার প্রাণ তিক্ত করে দিয়েছেন, সেই সর্বশক্তিমানের দিব্যি,3যতদিন আমার শরীরে প্রাণ আছে,আমার নাকে ঈশ্বরের প্রাণবায়ু আছে,4ততদিন আমার ঠোঁট খারাপ কোনও কথা বলবে না,ও আমার জিভ মিথ্যা কথা উচ্চারণ করবে না।5আমি কখনোই স্বীকার করব না যে তোমরা নির্ভুল;আমৃত্যু আমি আমার সততা অস্বীকার করব না।6আমি আমার সরলতা বজায় রাখব ও কখনোই তা ত্যাগ করব না;যতদিন আমি বেঁচে থাকব, আমার বিবেক আমাকে অনুযোগ করবে না।7“আমার শত্রু দুষ্টের মতো হোক,আমার বিপক্ষ অধার্মিকের মতো হোক।8যেহেতু অনীশ্বররা যখন বিচ্ছিন্ন হয়,যখন ঈশ্বর তাদের প্রাণ কেড়ে নেন,তখন তাদের কাছে কী প্রত্যাশা থাকে?9ঈশ্বর কি তখন তাদের আর্তনাদ শোনেনযখন তাদের উপরে চরম দুর্দশা নেমে আসে?10তারা কি সর্বশক্তিমানে আনন্দ খুঁজে পাবে?তারা কি সবসময় ঈশ্বরকে ডাকবে?11“ঈশ্বরের পরাক্রমের বিষয়ে আমি তোমাদের শিক্ষা দেব;সর্বশক্তিমানের কোনো কিছুই আমি লুকিয়ে রাখব না।12তোমরা নিজেরাই তো তা দেখেছ।তবে কেন এই অনর্থক কথা বলছ?13“ঈশ্বর দুষ্টদের এই পরিণতিই বরাদ্দ করে দিয়েছেন,নিষ্ঠুর মানুষ সর্বশক্তিমানের কাছ থেকে এই উত্তরাধিকারই লাভ করে:14তাদের সন্তানদের সংখ্যা যতই বেশি হোক না কেন, তাদের পরিণতি তরোয়ালই ;তাদের সন্তানসন্ততি কখনোই পর্যাপ্ত খাদ্য পাবে না।15যারা বেঁচে থাকবে মহামারি তাদের কবর দেবে,ও তাদের বিধবারাও তাদের জন্য কাঁদবে না।16যদিও সে ধুলোর মতো করে গাদা গাদা রুপোও কাদার পাঁজার মতো করে পোশাক-পরিচ্ছদ জমাবে,17তবুও সে যা জমাবে ধার্মিকেরা তা গায়ে দেবে,ও নির্দোষ মানুষেরা তার রুপো ভাগাভাগি করে নেবে।18যে বাড়ি সে তৈরি করে তা পতঙ্গের গুটির মতো,চৌকিদারের তৈরি করা কুঁড়েঘরের মতো।19সে ধনবান অবস্থায় শুতে যায়, কিন্তু আর কখনও সে এরকম করতে পারবে না;সে যখন চোখ খোলে, তখন সব শেষ।20আতঙ্ক বন্যার মতো তার নাগাল ধরে ফেলে;রাতের বেলায় প্রচণ্ড ঝড় তাকে উড়িয়ে নিয়ে যায়।21পূর্বীয় বাতাস তাকে তুলে নিয়ে যায়, ও সে সর্বস্বান্ত হয়;সেই বাতাস তাকে স্বস্থান থেকে উড়িয়ে দেয়।22সে যত সেই বাতাসের প্রকোপ থেকে পালায়তা নির্দয়ভাবে তাকে সজোরে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।23সেই বাতাস উপহাসভরে হাততালি দেয়ও শিস দিয়ে তাকে তাড়িয়ে দেয়।”